Ultimate magazine theme for WordPress.

যশোরে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে ছেলে হত্যার বিচার চাইলেন মা

0

 

 

যশোরের পুলেরহাটে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে নির্যাতনে নিহত বগুড়ার নাঈম হোসেনের (১৭) লাশ দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার সকাল আটটায় শিবগঞ্জ উপজেলার দেউলী ইউনিয়নের তালিবপুর পূর্বপাড়া গ্রামে বাড়ির পাশে নিজ জমিতে তাকে দাফন করা হয়।

ছেলে নাঈমের লাশ দেখার পর মা সান্তনা বেগম শোকে পাথর হয়ে গেছেন। কারো সঙ্গে কথা বলছেন না। খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন। বিছানায় শয্যাশায়ী হয়ে দিন কাটাচ্ছেন। তবে এ ঘটনার জন্য দায়ীদের উপযুক্ত বিচার দাবি করেছেন তিনি।

নাঈমের বড় ভাই শামীম প্রামানিক বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে টেলিভিশনে খবর দেখে পরদিন শুক্রবার সকালে মেজ ভাই শাহাদৎ প্রামানিককে সঙ্গে নিয়ে তিনি যশোর যান। সেখানে জেনারেল হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্তের পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে রাত আটটার দিকে তাদের কাছে নাঈমের লাশ হস্তান্তর করেন পুলিশ। রাতেই তারা অ্যাম্বুলেন্স যোগে নাঈমের লাশ নিয়ে বগুড়ার শিবগঞ্জে আসেন ভোর ৪টার দিকে। মরদেহ গোসলের সময় তার শরীরে অসংখ্য নির্যাতনের চিহ্ন দেখা যায়। এ থেকে বোঝা যায় নির্যাতন চালিয়ে আমার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমরা এই হত্যাকান্ডের ন্যায্য বিচার দাবি করছি।

নাঈমের মেজ ভাই ট্রাকচালক শাহাদৎ প্রামানিক জানান, ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার দুপুরে নাঈম আব্বার কাছে ফোন দেয়। ফোনে নাঈম জানায়, এখানে (যশোরে) বড় ধরনের ঝামেলা হয়েছে। বিনা অপরাধে স্যারেরা আমাদের মারধর করছে। তুমি রোববার ফোনটা খোলা রেখ। এটাই ছিল আব্বার সঙ্গে নাঈমের শেষ কথা।

শাহাদৎ আরও জানায়, যশোর যাবার পর জানতে পারি শিশু কেন্দ্রে ঠিকমত খাবার দেওয়া হতো না। কারণে-অকারণে ছেলেদের নির্যাতন করা হতো। ঠিকমত চুল কাটতে দেওয়া হতো না। নানা অনিয়ম বাসা বেঁধে ছিল সেখানে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আনোয়ার উল ইসলাম জানান, নাঈমের লাশ গ্রামে পৌঁছার পর দলে দলে মানুষ তাকে এক নজর দেখতে ভিড় জমায়। শোকে মূহ্যমান হয়ে পড়ে পুরো তালিবপুর গ্রাম। এর আগে এতো মানুষকে এক সঙ্গে দেখেনি তালিবপুর।

নিহত নাঈম হোসেন নান্নু প্রামানিকের ছেলে এবং দেউলী আলিয়া মাদ্রাসার ৫ম শ্রেণির ছাত্র। তিন ভাইয়ের মধ্যে নাঈম সবার ছোট ছিল। নাঈম ধর্ষণ ও হত্যা মামলার অসামি হিসেবে চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি থেকে যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে আটক ছিলেন।

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.