Ultimate magazine theme for WordPress.

কুড়িগ্রামে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের চরা দামে চারা কিনে আমন চাষ

0

 

কুড়িগ্রামে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে নিচু জমি ও চরাঞ্চলের অনেক জমি জেগে উঠেছে। এ অবস্থায় তিন দফা বন্যার কবলে পড়া কৃষকরা তাদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আমন চাষ শুরু করেছেন।

গত দেড় মাসের স্থায়ী বন্যায় রোপা আমন ও বীজতলাসহ কৃষির মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে এ অঞ্চলের কৃষকদের।একদিকে বন্যায় আগাম রোপন করা আমন ধানের চারা যেমন নষ্ট হয়ে গিয়েছে অনেক কৃষকের। তেমনি আমন বীজতলাও নষ্ট হয়েছে অনেক কৃষকের। তাই বন্যায় কুড়িগ্রামের অনেক কৃষক আমন আবাদ নিয়ে শংকিত হয়ে পড়েছেন। গত এক সপ্তাহ হয়েছে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার। কিন্তু প্রস্তুতির অভাবে অনেক কৃষক এখনও চলতি আমন মৌসুমের চারা লাগানোর কোন উপায় পাচ্ছেন না বলে জানা গেছে। একদিকে বন্যার পানি নেমে গিয়ে যেমন জমিতে পলি পড়ে আমন চাষ উপযোগী হয়েছে অনেক জমি। তেমনি বন্যার পানি নেমে গিয়ে উঁচু জমি গুলোতে পানি সংকট দেখা দিয়েছে।

তবুও থেমে নেই তাদের আমন আবাদের প্রস্তুতি। দিনভর পরিশ্রম করে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে আমন আবাদে ব্যস্ত সময় পার করছে এ এলাকার হাজার হাজার কৃষক।

সদর উপজেলার টগরাইহাট এলাকার বাঙুয়ার দোলার কৃষক জমির উদ্দি জানান, বন্যার পানি ওঠার দু’দিন আগে আমন ধান লাগাইছিলাম ৫০ শতক জমিতে। এরপরই বন্যার পানি এসে সব ডুবে যায়। পরপর তিনবার পানি এসে ওই আবাদ অনেক নষ্ট হয়ে গেলে এখন যেটুকু আছে তাতে নতুন চারায় খোসা দিয়ে টিকানোর চেষ্টা করছি।

একই এলাকার কৃষক সাবেদ আলী জানান, বন্যার পানি চলে গেছে ঠিকই। আমাদের উচু জমি শুকিয়ে খান খান হয়েছে। এখন কাউনিয়া ও রংপুর থেকে চারা অনেক চরা দামে কিনে এনে শ্যালো মেশিন লাগিয়ে নিচু জমি থেকে পানি তুলে আমন চাষ করছি। শুনতেছি আবার নাকি বন্যা হবে। তাহলে আমরা এত কষ্ট করি কি করব?

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, চলতি বন্যায় কুড়িগ্রাম জেলার ৯ উপজেলায় লক্ষাধিক কৃষকের ফসল নষ্ট হয়েছে।তাদের আমন বীজতলা ও সদ্য রোপন করা চারাসহ নানা ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে। পানিতে নিমজ্জিত হয় ১৮ হাজার হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসল। কিন্তু ১১ হাজার হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসল পানিতে নিমজ্জিত হয়ে সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মোস্তাফিজার রহমান জানান, কৃষকদের আমন বীজতলা তৈরি করতে ১০৩টি বীজতলা ও ভাসমান বীজতলা ১০০টি তৈরি করা হচ্ছে। এক লাখ কৃষক তাদের ইউনিয়ন ভিত্তিক এসব উৎস থেকে চারা নিয়ে আমন রোপন করতে পারবেন।

এদিকে আমন বীজতলা কৃষকদের নষ্ট হয়ে যাওয়ায় অনেকেই এখন চারা সংকটে জমি পতিত রাখার চিন্তা করছেন বলে জানা গেছে। তবে এসব এলাকার কৃষকদের কথা বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ও ঘুরে দাঁড়াতে যেভাবেই হোক রোপা আমন লাগিয়ে তা পূরণ করতে হবে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.